
Google Meet না Zoom: বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য কোনটা
বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য Google Meet না Zoom, কোনটা ভালো। ফ্রি প্ল্যানের সময়সীমা, রেকর্ডিং, ডেটা খরচ ও যুক্ত হওয়ার ঝামেলা নিয়ে সরাসরি তুলনা।
ফারিয়া হক
৪ মিনিট পড়া
প্রশ্নপত্র তৈরির সময় শিক্ষকরা যে ৬টি ভুল সবচেয়ে বেশি করেন এবং প্রতিটির সহজ সমাধান। নম্বর বণ্টন, MCQ, সময় ব্যবস্থাপনা ও যাচাই নিয়ে ব্যবহারিক গাইড।
ফারিয়া হক
৫ মিনিট পড়া

প্রশ্নপত্র তৈরি শিক্ষকের সবচেয়ে কম আলোচিত কিন্তু সবচেয়ে ফলাফল-নির্ধারণী কাজ। একটি ভালো প্রশ্নপত্র বলে দেয় শিক্ষার্থী আসলে কী শিখেছে। একটি দুর্বল প্রশ্নপত্র শুধু বলে দেয় কে বেশি মুখস্থ করেছে, অথবা কে প্রশ্নের প্যাঁচ ধরতে পেরেছে। পার্থক্যটা তৈরি হয় কয়েকটি ছোট সিদ্ধান্তে, যেগুলো বেশিরভাগ সময় তাড়াহুড়ায় নেওয়া হয়।
নিচের ছয়টি ভুল স্কুল, কলেজ ও কোচিং, সব জায়গার প্রশ্নপত্রেই বারবার দেখা যায়। প্রতিটির সঙ্গে সমাধানও দেওয়া হলো, যাতে পরের পরীক্ষার প্রশ্ন করার সময় সরাসরি কাজে লাগানো যায়।
সবচেয়ে সাধারণ ভুলটি হয় প্রথম প্রশ্ন লেখার আগেই। শিক্ষক সিলেবাস সামনে নিয়ে বসেন এবং যে অধ্যায়গুলো মাথায় আছে, সেখান থেকে প্রশ্ন করতে থাকেন। ফলাফল হলো, যে অধ্যায় তিনি সবচেয়ে ভালো পড়িয়েছেন বা সবচেয়ে সম্প্রতি পড়িয়েছেন, সেখান থেকে অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি নম্বর চলে আসে। যে অধ্যায়ে ক্লাস কম হয়েছে, সেখান থেকে হয়তো একটি প্রশ্নও থাকে না।
শিক্ষার্থী তখন ঠিক উল্টো বার্তা পায়। সে বুঝে ফেলে কোন অধ্যায়ে পরিশ্রম করলে নম্বর আসে, আর কোনটি বাদ দিলেও চলে।
সমাধানটি পুরনো এবং পরীক্ষিত: প্রশ্ন লেখার আগে একটি নম্বর বণ্টনের ছক বা টেবিল অব স্পেসিফিকেশন বানিয়ে নিন। একদিকে অধ্যায়ের নাম, অন্যদিকে প্রশ্নের ধরন, আর ঘরে ঘরে নম্বর। শিক্ষা মূল্যায়নের গবেষণায় এই ছককে কনটেন্ট ভ্যালিডিটি বা বিষয়গত যথার্থতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি নিশ্চিত করে প্রশ্নপত্র পুরো সিলেবাসের প্রতিনিধিত্ব করছে, শিক্ষকের স্মৃতির নয়।
ছকটি জটিল হওয়ার দরকার নেই। এক পাতার একটি টেবিলই যথেষ্ট, এবং একবার বানালে পরের বছরও কাজে লাগে।
সৃজনশীল প্রশ্নের কাঠামোয় জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা, এই চারটি স্তর আলাদা করে রাখা হয়েছে ঠিক এই কারণেই। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রশ্নপত্রে চারটি স্তরের চেহারা থাকে, ভেতরের কাজটা থাকে না। উদ্দীপকটি বইয়ের উদাহরণের প্রায় হুবহু কপি হলে প্রয়োগের প্রশ্নটি আসলে মুখস্থেরই প্রশ্ন হয়ে যায়।
পরীক্ষা করার সহজ উপায় আছে। নিজের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পাশে লিখুন, এর উত্তর কি বই বা নোট থেকে সরাসরি তুলে দেওয়া সম্ভব। যদি বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে প্রশ্নপত্রটি মুখস্থশক্তি মাপছে, বোঝাপড়া নয়।
সমাধান হলো উদ্দীপক বা প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়া। একই ধারণা, কিন্তু নতুন পরিস্থিতি। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র একই থাকবে, কিন্তু ঘটনাটি হবে এমন কিছু যা বইয়ে নেই। হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম একই থাকবে, কিন্তু সংখ্যা ও ব্যবসাটি হবে নতুন। মূল্যায়ন গবেষণায় এটিকে বলা হয় নভেল ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা, এবং উচ্চতর দক্ষতা মাপার জন্য এটিই প্রধান শর্ত।
বহুনির্বাচনি প্রশ্নে শিক্ষার্থী অনেক সময় বিষয় না জেনেও সঠিক উত্তর বের করে ফেলে, কারণ প্রশ্নের গঠনেই ইঙ্গিত থেকে যায়। এটি প্রশ্নপত্রের মান সরাসরি নষ্ট করে, কারণ যে জানে আর যে জানে না, দুজনের নম্বর কাছাকাছি চলে আসে।
সবচেয়ে বেশি যেসব ইঙ্গিত থেকে যায়:
সঠিক অপশনটি বাকিগুলোর চেয়ে লম্বা ও বেশি গোছানো হয়। শিক্ষক সঠিক উত্তরটি সাবধানে লেখেন, ভুলগুলো তাড়াহুড়ায়, আর শিক্ষার্থী সেটি ধরে ফেলে।
ভুল অপশনগুলো এতটাই অবাস্তব যে বাদ দিতে জ্ঞান লাগে না।
সঠিক উত্তর বারবার একই অবস্থানে বসে, যেমন বেশিরভাগ প্রশ্নে খ বা গ।
"উপরের সবগুলো" বা "কোনোটিই নয়" ধরনের অপশন ব্যবহার করা হয়। মূল্যায়ন-গবেষণায় এই দুটি অপশনকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এগুলো প্রশ্নের কাঠিন্য বদলে দেয় কিন্তু জ্ঞান মাপে না।
সমাধান সহজ: চারটি অপশনের দৈর্ঘ্য ও ভাষা কাছাকাছি রাখুন, প্রতিটি ভুল অপশনকে বিশ্বাসযোগ্য করুন, এবং ভুল অপশন বানানোর সময় শিক্ষার্থীরা বাস্তবে যে ভুলগুলো করে সেগুলোই ব্যবহার করুন। আর প্রশ্নপত্র শেষ হলে সঠিক উত্তরের অবস্থানগুলো একবার গুনে দেখুন।
অপশনের সংখ্যা নিয়ে একটি কথা প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে যায়। গবেষণা বলছে, চারটি অপশনের চেয়ে তিনটি ভালো অপশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যথেষ্ট, কারণ তিনটি সত্যিকারের বিশ্বাসযোগ্য ভুল অপশন লেখা এমনিতেই কঠিন। পাবলিক পরীক্ষার কাঠামো মানতে হলে চারটিই রাখতে হবে, কিন্তু ক্লাস টেস্ট বা ব্যাচ পরীক্ষায় এই স্বাধীনতা আছে।
"কোনটি সঠিক নয়" বা "নিচের কোনটি ব্যতিক্রম" ধরনের প্রশ্ন নিজে থেকে খারাপ নয়। সমস্যা হয় যখন নেতিবাচক শব্দটি বাক্যের ভেতরে সাধারণভাবে বসে থাকে। দ্রুত পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থী "নয়" শব্দটি মিস করে এবং জেনেও ভুল করে। তখন প্রশ্নটি বিষয়ের জ্ঞান নয়, পড়ার মনোযোগ মাপে।
আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন নির্দেশিকায় পরামর্শ হলো, নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করতেই হলে সেটি বোল্ড বা বড় হরফে লিখুন, যাতে চোখ এড়াতে না পারে।
একই সমস্যা লম্বা প্রশ্নেও। অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা, দুবার একই তথ্য, বা তিন লাইনের উদ্দীপক যেখানে এক লাইনেই চলত, এসব পড়ার চাপ বাড়ায়। যে শিক্ষার্থী বিষয় জানে কিন্তু ধীরে পড়ে, সে শাস্তি পায়। প্রশ্ন ছোট করুন, মূল কথাটি প্রশ্নের অংশে রাখুন, অপশনে নয়।
আর ট্রিক প্রশ্ন, অর্থাৎ যে প্রশ্নের উদ্দেশ্যই শিক্ষার্থীকে ফাঁদে ফেলা, সেগুলো বাদ দিন। এগুলো শেখার কিছু মাপে না।
প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি পরীক্ষা হয় যেখানে অর্ধেক শিক্ষার্থী শেষ প্রশ্নে পৌঁছাতেই পারে না। এটি কঠিন প্রশ্নের সমস্যা নয়, এটি হিসাবের সমস্যা।
সহজ নিয়ম হলো, প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করার আগে নিজে একবার পুরোটা লিখে সমাধান করুন এবং সময় মেপে রাখুন। একজন শিক্ষক যে সময়ে লিখতে পারেন, গড়পড়তা শিক্ষার্থীর লাগে তার প্রায় তিন গুণ। যদি আপনার ২৫ মিনিট লাগে, তাহলে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষায় সেটি ঠিক আছে। যদি আপনার ৪০ মিনিট লাগে, প্রশ্ন কমাতে হবে।
এই একটি অভ্যাস আরও একটি কাজ করে। নিজের প্রশ্ন নিজে সমাধান করতে গেলে অস্পষ্ট প্রশ্ন, ভুল সংখ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ে।
শেষ ভুলটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল। প্রশ্নপত্র তৈরি হয় পরীক্ষার আগের রাতে, প্রিন্ট হয় সকালে, এবং ভুলটি ধরা পড়ে পরীক্ষার হলে। তখন সংশোধন মানে ঘোষণা দেওয়া, সময় নষ্ট, এবং কিছু শিক্ষার্থী সেটি শুনতে না পাওয়া।
পরীক্ষা-প্রণয়ন নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশ্নপত্রের ভুলের বড় কারণ ব্যক্তির অযোগ্যতা নয়, বরং সময়ের চাপ এবং একজনের লেখা প্রশ্ন আরেকজনের চোখ না দেখা। অর্থাৎ এটি প্রক্রিয়াগত সমস্যা, এবং প্রক্রিয়া দিয়েই সমাধান করতে হয়।
কার্যকর তিনটি অভ্যাস:
প্রশ্ন লেখার পর অন্তত এক দিন পার হতে দিন, তারপর আবার পড়ুন। নিজের লেখা তাজা অবস্থায় পড়লে মস্তিষ্ক যা বোঝাতে চেয়েছিল সেটিই পড়ে, যা লেখা আছে তা নয়।
সহকর্মী একজনকে দিয়ে প্রশ্নপত্রটি একবার পড়ান। বিষয়ের শিক্ষক না হলেও চলে, কারণ অস্পষ্ট ভাষা ধরার জন্য বিষয়জ্ঞান লাগে না।
উত্তরপত্র বা মার্কিং স্কিম প্রশ্নের সঙ্গেই তৈরি করুন, পরে নয়। কোন প্রশ্নে কত নম্বর কীসের জন্য, সেটি আগে ঠিক না থাকলে খাতা দেখায় অসঙ্গতি তৈরি হয়।
নম্বর বণ্টনের ছক অনুযায়ী প্রতিটি অধ্যায় তার প্রাপ্য নম্বর পেয়েছে কি না।
কতগুলো প্রশ্নের উত্তর সরাসরি বই থেকে তুলে দেওয়া যায়।
MCQ-এর অপশনগুলোর দৈর্ঘ্য ও ভাষা কাছাকাছি কি না, এবং সঠিক উত্তরের অবস্থান ছড়ানো কি না।
নেতিবাচক শব্দ বোল্ড করা হয়েছে কি না।
নিজে সমাধান করে সময় মেপে দেখা হয়েছে কি না।
মার্কিং স্কিম প্রশ্নের সঙ্গে তৈরি হয়েছে কি না।
অন্তত একজন সহকর্মী পুরো প্রশ্নপত্র একবার পড়েছেন কি না।
সাতটির মধ্যে পাঁচটি নিশ্চিত করতে পারলেই প্রশ্নপত্রের মান বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের গড় মানের চেয়ে ভালো হবে।
Haladyna, T. M., Downing, S. M., and Rodriguez, M. C. (2002). A Review of Multiple-Choice Item-Writing Guidelines for Classroom Assessment. Applied Measurement in Education, 15(3), 309-334. https://eric.ed.gov/?id=EJ660246
Fives, H., and DiDonato-Barnes, N. (2013). Classroom Test Construction: The Power of a Table of Specifications. Practical Assessment, Research, and Evaluation, 18(3). https://doi.org/10.7275/cztt-7109
Johnson, M., and Mehta, S. (2024). What gives rise to errors in examination papers. Oxford Review of Education. https://www.tandfonline.com/doi/full/10.1080/03054985.2024.2308548
Schreyer Institute for Teaching Excellence, Penn State University. Multiple Choice Item Writing Rules. https://www.schreyerinstitute.psu.edu/pdf/Multiple_Choice_Item_Writing_Rules.pdf
১৫ মিনিটের একটা ডেমোতে নিজের ব্যাচ, হাজিরা আর ফি-এর হিসাব দিয়ে দেখে নিন।