সব লেখাগাইড

Google Meet না Zoom: বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য কোনটা

বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য Google Meet না Zoom, কোনটা ভালো। ফ্রি প্ল্যানের সময়সীমা, রেকর্ডিং, ডেটা খরচ ও যুক্ত হওয়ার ঝামেলা নিয়ে সরাসরি তুলনা।

ফা

ফারিয়া হক

৪ মিনিট পড়া

অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথম প্রশ্নটাই আসে, কোন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস নেব। উত্তরটা ফিচারের লম্বা তালিকা দেখে হয় না। বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য Google Meet না Zoom, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে মাত্র তিনটি জিনিসের ওপর: আপনার ক্লাস কত মিনিটের, আপনার শিক্ষার্থীরা কী ডিভাইসে যুক্ত হয়, আর আপনার রেকর্ডিং লাগে কি না।

নিচে দুটোর ফ্রি সংস্করণের প্রকৃত সীমা তুলনা করা হলো। সব তথ্য কোম্পানির নিজস্ব ডকুমেন্টেশন থেকে নেওয়া, এবং লেখাটির শেষে সূত্র দেওয়া আছে।

সময়সীমা, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

Zoom-এর ফ্রি প্ল্যানে যেকোনো মিটিং ৪০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়। দুইজনের মিটিং হোক বা পঞ্চাশ জনের, পার্থক্য নেই।

Google Meet-এর ফ্রি প্ল্যানে দুজনের কল ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে, কিন্তু তিনজন বা তার বেশি হলে সীমা এক ঘণ্টা।

অর্থাৎ ব্যাচ ক্লাসের জন্য Meet ২০ মিনিট বেশি দেয়। আর ওয়ান টু ওয়ান টিউশনের জন্য Meet-এর কোনো ব্যবহারিক সীমাই নেই, যেখানে Zoom সেখানেও ৪০ মিনিটে থামিয়ে দেয়। একক শিক্ষক যিনি মূলত একজন একজন করে পড়ান, তার জন্য এই একটি পার্থক্যই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

অনেকে ৪০ মিনিট পর আবার লিংক দিয়ে ক্লাস চালু করেন। এটি কাজ করে, কিন্তু বিনামূল্যে নয়। প্রতিবার পুনরায় যুক্ত হতে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থী ফিরে আসে না, বিশেষ করে যাদের সংযোগ দুর্বল, আর ক্লাসের ধারাবাহিকতা ভাঙে।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা

দুটোর ফ্রি প্ল্যানেই সর্বোচ্চ ১০০ জন। বেশিরভাগ কোচিং ব্যাচের জন্য এটি কোনো সীমাবদ্ধতাই নয়, তাই এই ঘরে দুটো সমান।

রেকর্ডিং, যেখানে Zoom এগিয়ে

Zoom-এর ফ্রি প্ল্যানে লোকাল রেকর্ডিং আছে, অর্থাৎ ক্লাস রেকর্ড হয়ে সরাসরি আপনার কম্পিউটারে সেভ হয়।

Google Meet-এর ফ্রি প্ল্যানে রেকর্ডিং নেই। রেকর্ড করতে হলে Google Workspace-এর পেইড সংস্করণ লাগবে।

যে প্রতিষ্ঠান ক্লাস রেকর্ড করে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পাঠায়, বা রেকর্ডিংকে কোর্সের অংশ হিসেবে বিক্রি করে, তাদের জন্য এটি বড় পার্থক্য। তবে খেয়াল রাখবেন, Zoom-এর লোকাল রেকর্ডিং কম্পিউটার থেকে হয়, মোবাইল থেকে নয়।

যুক্ত হওয়ার ঝামেলা, যেখানে Meet এগিয়ে

এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ সবচেয়ে বাস্তব পার্থক্য।

Meet-এর লিংকে ক্লিক করলে ব্রাউজারেই ক্লাস শুরু হয়ে যায়। অ্যাপ লাগে না, অ্যাকাউন্ট খোলার দরকার নেই।

Zoom সাধারণত অ্যাপ ইনস্টল করতে বলে, এবং কম স্টোরেজের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি একটি বাস্তব বাধা। ক্লাসের প্রথম দশ মিনিট যদি ইনস্টল করানোতে চলে যায়, ৪০ মিনিটের সুবিধা এমনিতেই শেষ।

যাদের শিক্ষার্থীরা মূলত মোবাইলে ক্লাস করে, এবং অনেকের ফোন পুরনো, তাদের জন্য Meet-এর এই সুবিধা সময়সীমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্রেকআউট রুম

ছোট দলে ভাগ করে কাজ করানোর দরকার হলে এই ঘরে Zoom এগিয়ে। Zoom-এর ফ্রি প্ল্যানেই ব্রেকআউট রুম তৈরি করা যায়।

Google Meet-এ সব ব্যবহারকারী ব্রেকআউট রুমে যোগ দিতে পারেন, কিন্তু রুম তৈরি করার সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু পেইড Workspace সংস্করণে সীমাবদ্ধ।

ডেটা খরচ

দুটো প্ল্যাটফর্মের ডেটা খরচ কাছাকাছি, এবং পার্থক্যটা প্ল্যাটফর্মে নয়, সেটিংসে।

ভিডিও বন্ধ রেখে শুধু অডিও ও স্ক্রিন শেয়ারে ক্লাস নিলে খরচ কয়েক গুণ কমে। দুটোতেই ভিডিও কোয়ালিটি কমানোর অপশন আছে।

শিক্ষার্থীদের ক্যামেরা বাধ্যতামূলক না করার একটি বড় কারণ এটিই, কারণ মোবাইল ডেটায় ভিডিও চালু রাখা অনেক পরিবারের জন্য সরাসরি খরচ।

খরচের কাঠামো

দুটোর পেইড প্ল্যানই প্রতি হোস্ট, প্রতি মাস হিসেবে বিল করে এবং ডলারে দাম ধরা। বাংলাদেশ থেকে সাবস্ক্রাইব করতে আন্তর্জাতিক লেনদেনে সক্ষম কার্ড লাগে, যা অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য আসল বাধা, দামটা নয়।

দাম দুই কোম্পানিই সময়ে সময়ে বদলায়, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের নিজস্ব প্রাইসিং পেজ একবার দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: একাধিক শিক্ষক থাকলেও সবার জন্য লাইসেন্স কেনার দরকার নেই। একটি পেইড হোস্ট অ্যাকাউন্ট রেখে রুটিন অনুযায়ী ভাগ করে ব্যবহার করা যায়, যতক্ষণ না দুটি ক্লাস একই সময়ে পড়ে।

যে কাজটি কোনোটিই করে না

দুটোর কোনোটিই উপস্থিতির স্থায়ী হিসাব রাখে না, ফি আদায়ের হিসাব রাখে না, নোটিশ সংরক্ষণ করে না, বা শিক্ষার্থীর অগ্রগতির রেকর্ড রাখে না। Meet-এর অ্যাটেনডেন্স রিপোর্ট পেইড সংস্করণে আছে, কিন্তু সেটিও প্রতি মিটিংয়ের একটি ফাইল, ধারাবাহিক রেকর্ড নয়।

অর্থাৎ প্ল্যাটফর্ম বাছাই ক্লাস নেওয়ার সমস্যার সমাধান, প্রতিষ্ঠান চালানোর সমস্যার নয়। এই দুটো আলাদা জিনিস, এবং একটিকে দিয়ে অন্যটি চালানোর চেষ্টাই বেশিরভাগ অগোছালো হিসাবের কারণ।

এক নজরে তুলনা

বিষয়Zoom (ফ্রি)Google Meet (ফ্রি)
ব্যাচ ক্লাসের সময়সীমা৪০ মিনিট৬০ মিনিট
ওয়ান টু ওয়ান৪০ মিনিট২৪ ঘণ্টা
সর্বোচ্চ অংশগ্রহণকারী১০০১০০
রেকর্ডিংআছে, কম্পিউটারে সেভ হয়নেই, পেইড লাগে
ব্রেকআউট রুম তৈরিআছেনেই, পেইড লাগে
যুক্ত হতে অ্যাপসাধারণত লাগেলাগে না, ব্রাউজারেই চলে

প্ল্যাটফর্ম বদলানোর আগে

একটি ব্যাচ বেছে নিয়ে এক সপ্তাহ নতুন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস নিন, পুরো প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে নয়। কোথায় শিক্ষার্থীরা আটকে যায় তা এক সপ্তাহেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের লিংক পাঠানোর পদ্ধতি আগে ঠিক করুন। প্রতিদিন নতুন লিংক দিলে কেউ না কেউ মিস করবেই। স্থায়ী লিংক ব্যবহার করলে এই সমস্যাটি থাকে না।

আর অভিভাবককে জানিয়ে রাখুন কোন অ্যাপ লাগবে এবং কতটুকু ডেটা খরচ হতে পারে। এই এক বার্তাটি ক্লাসের দিনের অর্ধেক প্রশ্ন কমিয়ে দেয়।

সংক্ষেপে কোনটা বেছে নেবেন

ক্লাস ৪০ মিনিটের কম এবং রেকর্ডিং দরকার: Zoom-এর ফ্রি প্ল্যান।

ক্লাস ৪০ থেকে ৬০ মিনিট, শিক্ষার্থীরা মোবাইলে, রেকর্ডিং দরকার নেই: Google Meet-এর ফ্রি প্ল্যান।

ওয়ান টু ওয়ান টিউশন: Google Meet, কারণ সেখানে কার্যত কোনো সময়সীমা নেই।

ক্লাস এক ঘণ্টার বেশি: যেকোনো একটির পেইড প্ল্যান নিতে হবে, অথবা ক্লাসটি দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। ৪০ মিনিট পরপর লিংক বদলানো দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে না।

তথ্যসূত্র

Zoom Support. Understanding time limits for Zoom Meetings. https://support.zoom.com/hc/en/article?id=zm_kb&sysparm_article=KB0067966

Zoom. Free Video Conferencing plan features. https://www.zoom.com/en/products/virtual-meetings/features/free-video-conferencing/

Google Meet Help. Learn about features in Google Meet. https://support.google.com/meet/answer/13396001

Google Workspace. Pricing and plan comparison. https://workspace.google.com/pricing

আরও পড়ুন

আপনার প্রতিষ্ঠানে এটা কেমন দেখাবে?

১৫ মিনিটের একটা ডেমোতে নিজের ব্যাচ, হাজিরা আর ফি-এর হিসাব দিয়ে দেখে নিন।

WhatsApp-এ কথা বলুন
WhatsApp