
Google Meet না Zoom: বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য কোনটা
বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের জন্য Google Meet না Zoom, কোনটা ভালো। ফ্রি প্ল্যানের সময়সীমা, রেকর্ডিং, ডেটা খরচ ও যুক্ত হওয়ার ঝামেলা নিয়ে সরাসরি তুলনা।
ফারিয়া হক
৪ মিনিট পড়া
অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার ৭টি বাস্তব উপায়। ক্যামেরা, চ্যাট, পোল, নাম ধরে ডাকা ও ক্লাস শুরু করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাভিত্তিক গাইড।
ফারিয়া হক
৫ মিনিট পড়া

অনলাইনে পড়ানোর সবচেয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হলো নীরবতা। ক্যামেরা বন্ধ, মাইক বন্ধ, প্রশ্ন করলে উত্তর নেই। শিক্ষক বুঝতে পারেন না কেউ শুনছে কি না। অনেকে ধরে নেন এটি নতুন প্রজন্মের মনোযোগের সমস্যা, কিন্তু গবেষণা অন্য কথা বলে। অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখার উপায় মূলত ক্লাসের গঠনের ওপর নির্ভর করে, শিক্ষার্থীর ইচ্ছাশক্তির ওপর নয়।
নিচের সাতটি উপায় সরাসরি প্রয়োগযোগ্য। প্রতিটির পেছনে হয় মূল্যায়ন গবেষণা আছে, নয়তো অনলাইন ক্লাসের বাস্তব পরিসংখ্যান আছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সবচেয়ে সাধারণ। শিক্ষার্থী যখন শুধু শোনে, মনোযোগ ধরে রাখা তার একার দায়িত্ব হয়ে যায়। যখন তাকে কিছু করতে হয়, দায়িত্বটা ক্লাসের গঠনের ওপর চলে আসে।
বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার ২২৫টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচলিত বক্তৃতার তুলনায় সক্রিয় শিখন পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয় এবং অকৃতকার্যতার হার ৩৩.৮ শতাংশ থেকে নেমে ২১.৮ শতাংশে দাঁড়ায়। এটি অনলাইন ক্লাসের গবেষণা নয়, কিন্তু নীতিটি একই এবং অনলাইনে এর প্রয়োজন আরও বেশি, কারণ সেখানে মনোযোগ হারানোর সুযোগ হাতের মুঠোয়।
বাস্তবে এর মানে খুব সহজ। প্রতি ক্লাসে অন্তত তিনবার শিক্ষার্থীকে কিছু করতে দিন। একটি অঙ্ক, একটি ছোট প্রশ্ন, চ্যাটে একটি উত্তর, যেকোনো কিছু।
বেশিরভাগ শিক্ষক ধরে নেন ক্যামেরা বন্ধ মানে শিক্ষার্থী মনোযোগী নয়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় ২৭৬ জন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তারা কেন ক্যামেরা চালু করে না। উত্তরগুলো মনোযোগ নিয়ে ছিল না। ৪১ শতাংশ বলেছে নিজের চেহারা বা পোশাক নিয়ে অস্বস্তি, ২৬ শতাংশ বলেছে পেছনে পরিবারের সদস্যরা থাকেন, ২২ শতাংশ বলেছে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কারণগুলো আরও প্রকট। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল ডেটায় ক্লাস করে, যেখানে ভিডিও চালু রাখলে খরচ কয়েক গুণ বাড়ে। অনেকে এক ঘরে পরিবারের সবার সঙ্গে বসে ক্লাস করে।
ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করলে যা হয়, তা হলো সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানের শিক্ষার্থীটিই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে। ওই গবেষণার সুপারিশ ছিল ক্যামেরা বাধ্যতামূলক না করে অংশগ্রহণের বিকল্প পথ রাখা, যেমন চ্যাট, পোল বা লিখিত উত্তর। আর ক্যামেরা চালু রাখার সুবিধাটা ব্যাখ্যা করা, নির্দেশ না দিয়ে।
একটি প্রচলিত কথা আছে যে মানুষের মনোযোগ ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ফুরিয়ে যায়। এই দাবির পক্ষে গবেষণার প্রমাণ আসলে দুর্বল, এবং শিক্ষা গবেষকরা এটিকে অতিসরলীকরণ বলেন। তাই এটিকে জৈবিক নিয়ম হিসেবে না নিয়ে ক্লাস সাজানোর একটি কাঠামো হিসেবে নিন।
কাঠামোটি কাজ করে এই কারণে যে, নির্দিষ্ট বিরতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থী জানে তাকে যেকোনো মুহূর্তে কিছু করতে হতে পারে। এই প্রত্যাশাটিই মনোযোগ ধরে রাখে, ঘড়ি নয়।
আট থেকে দশ মিনিট পরপর একটি প্রশ্ন, একটি পোল, বা এক লাইনে চ্যাটে উত্তর চাওয়া যথেষ্ট। জটিল কিছু দরকার নেই।
হঠাৎ নাম ধরে প্রশ্ন করলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভয় পায়, এবং ভয় মনোযোগ বাড়ায় না, এটি শুধু নীরবতা বাড়ায়। আবার কাউকে নাম ধরে না ডাকলে ক্লাস কয়েকজন সক্রিয় শিক্ষার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মাঝামাঝি পথটি কার্যকর। প্রশ্নটি আগে বলুন, ৩০ সেকেন্ড ভাবার সময় দিন, তারপর নাম ধরে ডাকুন। সবাই তখন প্রস্তুত থাকে, কারণ কার নাম আসবে তা কেউ জানে না, কিন্তু সবাই প্রশ্নটা নিয়ে ভেবেছে।
ক্লাসের শুরুতেই বলে দিন যে আপনি নাম ধরে ডাকবেন এবং ভুল উত্তর সমস্যা নয়। যে শিক্ষার্থী জানে ভুল উত্তরে অপমান নেই, সে উত্তর দেওয়ার ঝুঁকি নেয়।

অনলাইনে মুখে উত্তর দেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন। ঘরে শব্দ থাকে, মাইক ভালো নয়, অথবা সংকোচ কাজ করে। কিন্তু চ্যাটে লিখতে এই বাধাগুলোর কোনোটিই লাগে না, এবং ডেটা খরচও প্রায় শূন্য।
চ্যাট ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর নিয়মটি হলো একসঙ্গে উত্তর নেওয়া। প্রশ্ন করুন, সবাইকে উত্তর টাইপ করতে বলুন কিন্তু এন্টার না চাপতে বলুন, তারপর একসঙ্গে পাঠাতে বলুন। এতে কেউ আগের উত্তর দেখে নকল করে না এবং আপনি এক নজরে বুঝতে পারেন কতজন বুঝেছে।
পোল আরও দ্রুত কাজ করে। এক প্রশ্নের একটি পোল আপনাকে ৩০ সেকেন্ডে বলে দেয় পরের অংশে যাওয়া ঠিক হবে কি না।
অনেক শিক্ষক ক্লাস শুরু করেন গত দিনের সারসংক্ষেপ বলে। এটি আরামদায়ক, কিন্তু এতে শিক্ষার্থী শুধু শোনে। একই সময়ে যদি তাকে গত ক্লাসের তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়, কাজটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়।
স্মৃতি থেকে তথ্য বের করে আনার এই অনুশীলনকে শিক্ষা গবেষণায় রিট্রিভাল প্র্যাকটিস বলা হয়, এবং শেখা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি বারবার পড়ার চেয়ে কার্যকর বলে বহু গবেষণায় দেখা গেছে।
অতিরিক্ত সুবিধা হলো, এটি ক্লাসের প্রথম তিন মিনিটেই সবাইকে সক্রিয় করে। যে শিক্ষার্থী প্রথম মিনিটে অংশ নিয়েছে, সে পরের ৪০ মিনিটে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
স্ট্যানফোর্ডের একটি গবেষণাপত্রে ভিডিও কলের ক্লান্তির কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে: পর্দায় মুখের দিকে অস্বাভাবিক কাছ থেকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা, নিজের মুখ সারাক্ষণ দেখতে পাওয়া, নড়াচড়ার সুযোগ কমে যাওয়া, এবং শরীরী ভাষা বোঝা কঠিন হওয়া। এগুলো মিলে স্বাভাবিক ক্লাসের তুলনায় বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে।
এর একটি ব্যবহারিক ফল আছে শিক্ষকের জন্য। অনলাইনে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে যে সাড়াটা সাধারণত ক্লাসরুমে চোখের দিকে তাকানো বা মাথা নাড়া দিয়ে আসে, সেটি আসে না। শিক্ষক তখন ধরে নেন কেউ শুনছে না এবং হতাশ হয়ে পড়েন।
সমাধান হলো সাড়া পাওয়ার পথটা তৈরি করে নেওয়া, অনুমান না করা। প্রতি ১০ মিনিটে একটি পোল বা এক লাইনের চ্যাট উত্তর আপনাকে যা জানায়, নীরবতা তা কখনোই জানাবে না।
নিজের জন্যও একটি ছোট পরামর্শ: নিজের ভিডিও প্রিভিউ লুকিয়ে রাখুন। সারাক্ষণ নিজের মুখ দেখতে থাকা ক্লান্তি বাড়ায়, এবং এটি বন্ধ করা এক ক্লিকের কাজ।
অনলাইনে মনোযোগ ব্যক্তিত্ব দিয়ে ধরে রাখা যায় না, গঠন দিয়ে যায়। ক্যামেরা নিয়ে জোর না করে অংশগ্রহণের সহজ পথ রাখুন, প্রতি দশ মিনিটে একবার শিক্ষার্থীকে কিছু করতে দিন, এবং নীরবতাকে তথ্য হিসেবে নয়, তথ্যের অভাব হিসেবে দেখুন।
Freeman, S., et al. (2014). Active learning increases student performance in science, engineering, and mathematics. PNAS, 111(23), 8410-8415. https://www.pnas.org/doi/10.1073/pnas.1319030111
Castelli, F. R., and Sarvary, M. A. (2021). Why students do not turn on their video cameras during online classes and an equitable and inclusive plan to encourage them to do so. Ecology and Evolution, 11(8), 3565-3576. https://doi.org/10.1002/ece3.7123
Bailenson, J. N. (2021). Nonverbal Overload: A Theoretical Argument for the Causes of Zoom Fatigue. Technology, Mind, and Behavior, 2(1). https://doi.org/10.1037/tmb0000030
Wilson, K., and Korn, J. H. (2007). Attention During Lectures: Beyond Ten Minutes. Teaching of Psychology, 34(2), 85-89. https://doi.org/10.1080/00986280701291291
১৫ মিনিটের একটা ডেমোতে নিজের ব্যাচ, হাজিরা আর ফি-এর হিসাব দিয়ে দেখে নিন।